দেশে ডিজিটাল লেনদেনকে আরও সহজ, সাশ্রয়ী ও সর্বজনীন করতে একাধিক যুগান্তকারী উদ্যোগ হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বাংলা QR ব্যবহারে বর্তমানে যে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (MDR) বা মার্চেন্ট চার্জ দিতে হয়, তা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াই ব্যাংকিং অ্যাপ ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাপ ব্যবহার করে লেনদেনের প্রযুক্তি চালুর লক্ষ্যে কাজ চলছে।

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর। তিনি বলেন, দেশে ডিজিটাল আর্থিক সেবার পরিধি বাড়াতে এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাস্তবধর্মী বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

গভর্নর জানান, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বাংলা QR ব্যবহারে উৎসাহিত করতে প্রায় ১০০ কোটি টাকার একটি প্রণোদনা তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই তহবিল থেকে মার্চেন্ট চার্জের ব্যয় বহন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে ক্ষুদ্র দোকানদার, খুচরা ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান কোনো অতিরিক্ত চার্জ ছাড়াই বাংলা QR-এর মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মার্চেন্ট চার্জের কারণে ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণে আগ্রহ হারান। এই চার্জ তুলে দেওয়া হলে তারা আরও স্বাচ্ছন্দ্যে ডিজিটাল লেনদেনে যুক্ত হবেন এবং নগদ অর্থের ওপর নির্ভরশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।

অনুষ্ঠানে গভর্নর আরও জানান, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে দুর্বল ইন্টারনেট সংযোগের কারণে অনেক সময় ডিজিটাল লেনদেনে সমস্যা দেখা দেয়। এই সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) যৌথভাবে এমন একটি প্রযুক্তি উন্নয়নের কাজ করছে, যার মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াই ব্যাংকিং অ্যাপ ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) অ্যাপ ব্যবহার করে লেনদেন করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, এই প্রযুক্তি চালু হলে পাহাড়ি এলাকা, চরাঞ্চল, দুর্গম গ্রাম কিংবা দুর্বল নেটওয়ার্কসমৃদ্ধ অঞ্চলেও মানুষ সহজেই ডিজিটাল আর্থিক সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। এতে দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি আরও শক্তিশালী হবে এবং ডিজিটাল অর্থনীতির বিস্তার ত্বরান্বিত হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্য হলো ভারতের মতো জিরো মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (Zero MDR) ব্যবস্থা চালু করা। এতে ব্যবসায়ীদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ থাকবে না এবং বাংলা QR-ভিত্তিক লেনদেন দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠবে।

তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার সম্প্রসারণের মাধ্যমে লেনদেনে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে, অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং ক্যাশলেস অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ আরও একধাপ এগিয়ে যাবে। একই সঙ্গে নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনার ব্যয় কমবে এবং সাধারণ মানুষের জন্য লেনদেন হবে আরও নিরাপদ, দ্রুত ও সহজ।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মার্চেন্ট চার্জ প্রত্যাহার এবং ইন্টারনেট ছাড়াই ডিজিটাল লেনদেনের সুযোগ চালু হলে দেশের ডিজিটাল আর্থিক খাতে নতুন গতি সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, গ্রামীণ উদ্যোক্তা ও সাধারণ গ্রাহকরা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন। এর ফলে বাংলা QR-এর ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে এবং সারাদেশে ক্যাশলেস লেনদেনের বিস্তার আরও দ্রুত ঘটবে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *