গাইবান্ধা প্রতিনিধি:

যমুনার দুই পাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ, কৃষকের ন্যায্যমূল্যের প্রত্যাশা আর উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নের স্বপ্ন—সবকিছুকে সামনে রেখে ফুলছড়ি-বাহাদুরাবাদ রুটে দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের দাবি উঠেছে জোরালোভাবে।

উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার যোগাযোগ আরও সহজ, দ্রুত ও সাশ্রয়ী করতে রংপুর বিভাগের গাইবান্ধাসহ উত্তরাঞ্চলের ২৪ জন সংসদ সদস্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, প্রস্তাবিত এই সেতু বাস্তবায়িত হলে শুধু নদী পারাপারের দুর্ভোগই কমবে না, বদলে যাবে উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি ও মানুষের জীবনযাত্রার চিত্র।

প্রায় ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রস্তাবিত দ্বিতীয় যমুনা সেতুটি নির্মিত হলে ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগের দূরত্ব প্রায় ১৫০ কিলোমিটার কমে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এতে যাতায়াতে সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হবে। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে রাজধানীতে পৌঁছানোর যে ভোগান্তি, তা অনেকটাই কমে আসবে।

এই সেতুকে ঘিরে সবচেয়ে বড় আশার জায়গা কৃষি। গাইবান্ধার ফুলছড়ি, সাঘাটাসহ উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় উৎপাদিত ভুট্টা, মরিচসহ নানা কৃষিপণ্য দ্রুত রাজধানীর বাজারে পৌঁছানো সম্ভব হবে। এতে কৃষকের পণ্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমবে, কমবে পরিবহন ব্যয়; পাশাপাশি উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সম্ভাবনাও বাড়বে।

শুধু কৃষি নয়, দ্বিতীয় যমুনা সেতু উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন দরজাও খুলে দিতে পারে। শিল্প-কারখানা স্থাপন, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবার সুযোগ বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বদলে যেতে পারে এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক বাস্তবতা।

দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকা উত্তরাঞ্চলের বৈষম্য দূর করতে তাই দ্বিতীয় যমুনা সেতুকে সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রকল্পটি বাজেটে বরাদ্দ এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) অন্তর্ভুক্ত করে দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন ২৪ সংসদ সদস্য।

তাদের এই যৌথ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে যমুনার দুই পাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটার পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ, কৃষি, শিল্প ও অর্থনীতিতে সৃষ্টি হতে পারে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *