শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত না পাঠানো পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় সফর এবং ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণের বিষয়ে অনাগ্রহ দেখিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ট্রিবিউন-এর এক প্রতিবেদনে কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে এমন দাবি করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১০ আগস্ট ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট করেন। প্রায় ৪৫ মিনিটের ওই বৈঠকে তিনি জানান, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ না করা হলে তিনি ভারত সফরে যাবেন না—এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীনেশ ত্রিবেদী দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্গঠনের সম্ভাবনা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। ভারত সম্পর্ক উন্নয়নে কোনো প্রচেষ্টাই বাদ দেবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে তারেক রহমান নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন বলে কূটনৈতিক সূত্রের দাবি।

এদিকে, একই দিনে ভারতের বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং (র)-এর প্রধান পরাগ জৈন ঢাকায় এসে প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম শামসুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকেও বাংলাদেশের পরিবর্তিত অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে বলে সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

দ্য ট্রিবিউন আরও জানায়, শেখ হাসিনার কর্মকাণ্ড দুই দেশের সম্পর্ককে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে—এমন অভিযোগে তারেক রহমান ও তার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের অসন্তোষ রয়েছে। এমনকি তারেক রহমানের সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় ভারত সফরও শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের ওপর ‘ফিফটি-ফিফটি’ নির্ভর করবে বলে দিল্লিকে বার্তা দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁর নতুন ‘লুক ইস্ট’ উদ্যোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দেশ বাংলাদেশ। এ অবস্থায় তারেক রহমানের কঠোর অবস্থান দিল্লির কাছে কিছুটা আকস্মিক বলেই মনে হচ্ছে।

তবে বর্তমানে উভয় পক্ষই নিজেদের কঠোর অবস্থান কিছুটা নমনীয় করার চেষ্টা করছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ও ভারত উভয়েই একে অপরের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতন। তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে মালয়েশিয়া ও চীন সফরের দিকেও ভারত গভীরভাবে নজর রেখেছে বলে সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়।

শেখ হাসিনার বিষয়ে ভারতীয় কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলেছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা এবং ভারতের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত রাজনৈতিক সহযোগী হিসেবে ভারত তাকে পুরোপুরি পরিত্যাগ করতে পারবে না। বিশেষ করে জীবনে দ্বিতীয়বারের মতো শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন বলেও সূত্রগুলো উল্লেখ করেছে।

তবে শেখ হাসিনার ৫ আগস্টের সংবাদ সম্মেলন বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টায় বড় ধরনের বাধা তৈরি করেছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো স্বীকার করেছে।

ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তের নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্রগুলোর মতে, ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্বার্থ নিশ্চিত করতে একটি স্থিতিশীল ও বন্ধুত্বপূর্ণ বাংলাদেশ প্রয়োজন।

তবে দ্য ট্রিবিউন-এর প্রতিবেদনে উল্লিখিত এসব তথ্যের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *