গাইবান্ধা প্রতিনিধি: গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটী ইউনিয়নে দারিয়াপুর রোড থেকে আনন্দবাজার (ময়নার বাজার) পর্যন্ত চলমান কার্পেটিং সড়ক নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অনিয়মের প্রতিকার চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বরং অভিযোগের পরও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটির নির্মাণকাজের শুরু থেকেই সরকারি নকশা ও নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে না। বিষয়টি জানিয়ে স্থানীয় জনগণের পক্ষ থেকে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। তবে অভিযোগের পরও কাজ বন্ধ করা কিংবা সরেজমিনে তদন্তের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, সড়কের ডব্লিউবিএম (WBM) স্তরে নিম্নমানের ও পচা ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি সাব-বেজ তৈরির সময় প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত বালু মিশিয়ে কাজ করা হয়েছে। এতে সড়কের স্থায়িত্ব ও নির্মাণমান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, নকশা অনুযায়ী অনেক স্থানে সড়কের প্রস্থ ১০ ফুট করার কথা থাকলেও তা কমিয়ে প্রায় সাড়ে ৮ ফুট করা হয়েছে। কোথাও কোথাও সাব-বেজ তৈরি না করেই সরাসরি মাটির ওপর এজিং বসানোর অভিযোগও রয়েছে।

এছাড়া সড়কের দুই পাশে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী প্রায় ১ মিটার শোল্ডার (মাটি ভরাট) থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে কোথাও মাত্র ৬ ইঞ্চি, আবার কোথাও দেড় ফুট পর্যন্ত মাটি ভরাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সড়কের নির্ধারিত স্লোপ বা ঢালও যথাযথভাবে রাখা হয়নি বলে তারা দাবি করেছেন।

নির্মাণকাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. উজ্জল মিয়ার দায়িত্ব পালনে গাফিলতির কারণেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অনিয়মের সুযোগ পাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, লিখিত অভিযোগের পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আরও বেপরোয়াভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, সড়কের কাজ যেন টেকসই ও মানসম্মত হয়, সে জন্যই তারা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন। কিন্তু অভিযোগের পরও নিম্নমানের ইট ও অতিরিক্ত বালু ব্যবহার করে কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এতে সরকারি অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি ভবিষ্যতে সড়কটি দ্রুত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয়রা অবিলম্বে সড়ক নির্মাণকাজ স্থগিত করে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী অপসারণ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সরকারি নকশা ও নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী পুনরায় কাজ করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *